গণভোট ও জুলাই সনদ: ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইশরাক হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে দেশের সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ‘গণভোট’। এই নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যখন দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা দিলেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইশরাক হোসেন বলেন, "জাতীয় সংসদের সামনে বিএনপি-সহ ২৪টি রাজনৈতিক দল ‘জুলাই সনদের’ স্বাক্ষরকারী হয়েছিল। তাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আমরা আছি—সেই প্রমাণ নতুন করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।"
গত নভেম্বরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদিত হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই আদেশ জারি করেন। এই সনদে বর্ণিত রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক ৪টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি মাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেওয়া হবে।
গণভোটে যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকছে: ১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার: জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন। ২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য থাকবে এবং সংবিধান সংশোধনে তাদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। ৩. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভারসাম্যপূর্ণ করা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ। ৪. রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি: সনদে বর্ণিত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলোর বাধ্যবাধকতা।
গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে, ঠিক তখনই ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ করেছে ইসি।
নাহিদ ইসলাম তার নির্বাচনী এলাকায় বড় আকৃতির রঙিন ছবি এবং ‘দেশ সংস্কারের গণভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকুন’ স্লোগান সংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করেছিলেন। ইসির মতে, এটি সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮-এর সরাসরি লঙ্ঘন। কারণ, ভোটগ্রহণের ৩ সপ্তাহ আগে কোনো প্রকার প্রচারণা শুরু করা নিষিদ্ধ। ১৯ জানুয়ারি সকালের মধ্যে তাকে এই শোকজের জবাব দিতে এবং বিলবোর্ড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদি এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে। বিশেষ করে পিআর পদ্ধতিতে (অনুপাতিক হারে) ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়টি রাষ্ট্র কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |